Study Library / বাংলা ভাষা ও সাহিত্য / বাংলা সাহিত্য
🆓 Free 15 min read

বাংলা জাতির উদ্ভব ও বিকাশ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ মানেই চর্যাপদের যুগ। এটি এমন এক সময় যখন বাংলা ভাষা সবেমাত্র অপভ্রংশ থেকে বেরিয়ে নিজের রূপ ধারণ করছিল এবং সাহিত্য কেবল ধর্মের সাধন-ভজন ও গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল।

By SHIKKHA GURU

১. বাঙালি জাতি

বাঙালি একটি সংকর জাতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বহিরাগত জনগোষ্ঠীর শারীরিক ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণে আজকের বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে। বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ক. প্রাক আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী
  • খ. আর্য নরগোষ্ঠী

আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী মূলত চার শাখায় বিভক্ত:

  • ক. নেগ্রিটো
  • খ. অস্ট্রিক
  • গ. দ্রাবিড়
  • ঘ. ভোটচীনীয়

প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে অস্ট্রিক জাতি বাংলায় প্রবেশ করে নেগ্রিটোদের পরাজিত করে। সমসাময়িককালে খাইবার গিরিপথ দিয়ে বাংলায় আসে দ্রাবিড় জাতি। দ্রাবিড়রা সভ্যতায় উন্নততর বলে তারা অস্ট্রিক জাতির উপর প্রভাব বিস্তার করে। অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় জাতির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠে আর্যপূর্ব বাঙালি জাতি।

খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে আফগানিস্তানের খাইবার গিরিপথ দিয়ে কেকশীয় অঞ্চলের শ্বেতকায় আর্যগোষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে আর্যরা বাংলায় প্রবেশ করে। সে সময় বাংলায় বসবাস করতো অন্ত্যজ সম্প্রদায়ের লোক, যারা সভ্যতায় ছিল অনেক পিছিয়ে এবং এরা অস্ট্রিক নামে পরিচিত। আর্যগণ অস্ট্রিক বা অনার্যদের তুলনায় সভ্যতায় অনেক উন্নততর ছিল বলে তারা অস্ট্রিকদের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং বাংলা দখল করে নেয়। এভাবে আর্য ও অনার্য আদিম অধিবাসীদের সংমিশ্রণে এক নতুন মিশ্র জাতির সৃষ্টি হয়, যারা পরবর্তীতে 'বাঙালি' নামে পরিচিত হয়।

প্রশ্নোত্তর

  • প্র. বাঙালি জাতির গঠন কিরূপ? উ. সংকর জাতি।
  • প্র. আর্যগোষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রবেশ করে কবে? উ. খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।
  • প্র. আর্যরা বাংলায় প্রবেশ করে কবে? উ. খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকে।
  • প্র. কোন কোন প্রাচীন গ্রন্থে 'বঙ্গ' কথাটির উল্লেখ আছে? উ. 'ঋকবেদ', 'মহাভারত', 'মৎস্যপুরাণ'।
  • প্র. বিভিন্ন জনপদ কখন একক নামে ঐক্য লাভ করে? উ. খ্রিষ্টের জন্মের পর থেকে সাতশ বছর পর্যন্ত বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল। প্রথমে গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক এবং পরবর্তীতে পাল আমলের রাজারা সকল জনপদকে একীভূত করেন। সম্রাট আকবর এ অখণ্ড সত্তার নাম দেন 'সুবা-বাংলা'।

২. বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ

বাংলার আদিম অধিবাসীগণ প্রথম থেকেই বাংলায় কথা বলতেন। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্যতম ভাষা হিসেবে বাঙলা বিবর্তিত হয়েছে বলে প্রাক-আর্য যুগের অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষার সাথে বাংলার সংশ্লিষ্টতা নেই। বাংলার আদিম অধিবাসীদের ভাষা ছিল অস্ট্রিক। অনার্যদের তাড়িয়ে আর্যরা এদেশে বসবাস শুরু করলে তাদেরই আর্য ভাষা হতে বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমে ক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। অতএব বলা যায় যে, বাঙালি জাতি যেমন সংকর জাতি তেমনি বাংলা ভাষাও সংকরায়ণের মাধ্যমে সৃষ্ট।

হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ 'বেদ' এর ভাষা হলো বৈদিক ভাষা। দেব-দেবীর পূজা এবং বৈদিক যজ্ঞকার্যে ব্যবহার করা এ ভাষা কালক্রমে উচ্চারণের অপপ্রয়োগ, বিকৃতি এবং স্থানীয় শব্দাবলির সংযোজনের কারণে কৌলিন্য হারিয়ে ক্রমেই অপ্রচলিত হতে থাকে। খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকের বিখ্যাত বৈয়াকরণ পাণিনি বৈদিক ভাষার সংস্কার সাধন করেন এবং নির্দিষ্ট সূত্র প্রদান করেন। সংস্কারকৃত এ নির্দিষ্ট ভাষাই সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃত ভাষা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল না, এ ভাষা ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা ব্যবহার করতেন।

সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল 'প্রাকৃত ভাষা'। 'প্রাকৃত' শব্দের অর্থ 'স্বাভাবিক'। পরবর্তীতে প্রাকৃত ভাষা থেকে 'পালি' ও 'অপভ্রংশ' নামক দুটি ভাষার উদ্ভব ঘটে। সাধুভাষা থেকে ভ্রষ্ট কিংবা বিকৃতভাবে উচ্চারিত শব্দই অপভ্রংশ। বৈয়াকরণ পতঞ্জলির মতে, 'বিশেষ ভাষার বিচ্যুত বা বিকৃত ভাবই অপভ্রংশ'। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এ অপভ্রংশের বিস্তারকাল ধরা হয়।

'প্রাকৃত' ভাষার প্রকারভেদ ঘটলেও সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা প্রাকৃতই থেকে গেল। পরবর্তীতে 'প্রাকৃত' ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করল। কালক্রমে 'প্রাকৃত' থেকে উৎপত্তি লাভ করে 'বাংলা ভাষা'।

প্রশ্নোত্তর

  • প্র. বাংলা ভাষার মূল উৎস কী? উ. প্রাকৃত ভাষা।
  • প্র. 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা কাকে বলে? উ. পৃথিবীর সমস্ত ভাষাকে কয়েকটি ভাষাবৃক্ষে বিভক্ত করা যায়। এ ভাষাবৃক্ষগুলোর মূলভাষার একটি ইন্দো-ইউরোপীয়। এ নামটি কাল্পনিক। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইউরোপ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সব ভাষাকে এই ভাষাবংশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ইন্দো-ইউরোপীয় মূলভাষার উদ্ভব বলে ধারণা করা হয়।
  • প্র. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের শাখা কয়টি? উ. দুইটি; যথা: কেন্তুম ও শতম। এ দুটি শাখার উপশাখা রয়েছে ৮টি; যথা: গ্রিক, ইতালিক, কেলটিক, জার্মানিক, আর্য (ইন্দো-ইরানীয়), বাল্টো-স্লাভিক, আর্মেনীয় ও আলবেনীয়। এর প্রথম চারটি কেন্তুম শাখার, শেষের চারটি শতম শাখার অন্তর্ভুক্ত। ইউরোপীয় ভাষাগুলোকে কেন্তুম ও আর্য (ইন্দো-ইরানীয়) ভাষাগুলোকে শতম শাখা ধরা হয়। বাংলা ভাষার উদ্ভব ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শতম শাখা থেকে।
  • প্র. 'অপভ্রংশ' কী? উ. সাধুভাষা থেকে ভ্রষ্ট কিংবা বিকৃতভাবে উচ্চারিত শব্দই অপভ্রংশ। বৈয়াকরণ পতঞ্জলির মতে, 'বিশেষ ভাষার বিচ্যুত বা বিকৃত ভাবই অপভ্রংশ'। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এ অপভ্রংশের বিস্তারকাল ধরা হয়।
  • প্র. 'সংস্কৃত' ভাষা কী? উ. হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ 'বেদ' এর ভাষা হল বৈদিক ভাষা। দেবদেবীর পূজা এবং বৈদিক যজ্ঞকার্যে ব্যবহার করা এ ভাষা কালক্রমে উচ্চারণের অপপ্রয়োগ, বিকৃতি এবং স্থানীয় শব্দাবলির সংযোজনের কারণে কৌলিন্য হারিয়ে ক্রমেই অপ্রচলিত হতে থাকে। সপ্তম শতকের বিখ্যাত বৈয়াকরণ পাণিনি বৈদিক ভাষার সংস্কার সাধন করেন এবং নির্দিষ্ট সূত্র প্রদান করেন। সংস্কারকৃত এ নির্দিষ্ট ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
  • প্র. ব্রজবুলি কী? [৩৬তম বিসিএস লিখিত] উ. ব্রজবুলি হলো বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এ ভাষার স্রষ্টা। এ ভাষা কখনো মানুষের মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহার নেই। এতে কিছু হিন্দি শব্দ আছে। এ ভাষায় চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস বিভিন্ন বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
  • প্র. বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কত? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী। ড. সুনীতিকুমারের মতে- দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী।
  • প্র. বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষা কতটি? উ. প্রায় সাড়ে তিন হাজার।
  • প্র. 'চর্যাপদ' সম্পর্কে কী জান? উ. 'চর্যাপদ' ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় রচিত প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত স্তোত্র সংকলন। এর রচয়িতা হিসেবে ৩৭৮ জনের নাম পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৩৫০ জন ঋষি এবং ২৮ জন ঋষিকা। এটি ৭টি মৌলিক ছন্দ এবং প্রায় ৪০ টি মিশ্র ছন্দে রচিত। এর সংকলক পরাশর পুত্র কৃষ্ণদ্বৈপায়ন।

বাংলা ভাষার কুলজি (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর "বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত" অনুসারে)

হিন্দ-ইউরোপীয় (অনুমানিক ৫০০০ পূর্ব খ্রিষ্টাব্দ) → কেন্তুম / শতম (৩৫০০ পূ.খ্রী.) → শতম শাখা থেকে হিন্দ-আর্য (২৫০০ পূ.খ্রী.) → ভারতিক (১২০০ পূ.খ্রী.) → প্রাচীন ভারতীয় আর্য + বৈদিক/সংস্কৃত → মধ্য হিন্দ-আর্য বা প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য (আদিম প্রাকৃত, ৮০০ পূ.খ্রী.) →

  • প্রাচীন উদীচ্য
  • প্রাচীন শৌরসেনী
  • প্রাচীন প্রাচ্য (৫০০ পূ.খ্রী.) → অর্ধ মাগধী প্রাকৃত → মাগধী প্রাকৃত → গৌড়ী প্রাকৃত → গৌড়ী অপভ্রংশ → বঙ্গ-কামরূপী → ১. বাংলা, ২. আসামি
  • পালি
  • অশোক লিপির ভাষা

(টীকা: ড. শহীদুল্লাহ্ তাঁর ভাষাচিত্রে * চিহ্ন দিয়ে আনুমানিক ভাষা এবং + চিহ্ন দিয়ে মৃত ভাষাকে বুঝিয়েছেন।)

এই অংশের প্রশ্নোত্তর (পার্শ্ব টীকা থেকে)

  • প্র. বাংলা ভাষার পরিবার/গোষ্ঠী কোনটি? উ. ভারতীয় আর্য ভাষা।
  • প্র. বাংলা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? উ. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর।
  • প্র. বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন কোন ভাষায় প্রচলিত ছিল? উ. মাগধী প্রাকৃত।
  • প্র. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- গৌড়ী প্রাকৃত থেকে।
  • প্র. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- দশম শতাব্দী।

৩. বিগত পরীক্ষায় আসা প্রশ্নসমূহ (ভাষাবংশ ও বাংলা ভাষার উৎস)

১. ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস কী? [মন্ত্রপরিষদ বিভাগের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা: ০৬] ক. মূল আর্যভাষা খ. বৈদিক ভাষা গ. অনার্য ভাষা ঘ. সংস্কৃত ভাষা — উ. গ

২. বাংলা আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা কী / বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিল? [সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা: ১৬] ক. সংস্কৃত খ. বাংলা গ. অস্ট্রিক ঘ. হিন্দি — উ. গ

৩. প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা চিহ্নিত করুন? [পিএসসির সহকারী পরিচালক: ০৬] ক. পালি খ. প্রাকৃত গ. বৈদিক ঘ. ভোজপুরী — উ. গ

৪. বেদের ভাষাকে কি ভাষা বলা হয়? [পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী: ১৩] ক. দেশি ভাষা খ. বৈদিক ভাষা গ. বেদী ভাষা ঘ. ইংরেজী ভাষা — উ. খ

৫. বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে যেখান থেকে / বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষার অন্তর্গত? [৭ম বেসরকারী প্রভাষক নিবন্ধন: ১১] ক. দ্রাবিড় খ. ইউরালীয় গ. ইন্দো-ইউরোপীয় ঘ. সেমেটিক — উ. গ

৬. ভারতীয় ভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায়, তার নাম? [মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা: ১৬] ক. রামায়ণ খ. মহাভারত গ. ঋগবেদ ঘ. চর্যাপদ — উ. গ

৭. ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ভাষা কোনটি? [তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার অধিদপ্তর: ০৬] ক. বাংলা খ. ইংরেজী গ. ফরাসি ঘ. উর্দু — উ. ক

৮. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কয়টা শাখা? [সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকল্যাণ সংগঠক: ০৫] ক. একটা খ. দুটো গ. তিনটে ঘ. চারটে — উ. খ

৯. 'প্রাকৃত' শব্দটির অর্থ- [কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক পরিদর্শকের সহকারী পরিদর্শক: ০৫] ক. প্রকৃত খ. যথার্থ গ. যা করা হয়েছে ঘ. স্বাভাবিক — উ. ঘ

১০. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি / বাংলা ভাষার পূর্ববর্তী স্তরের নাম কী? [প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক: ১৬] ক. কানাড়ি ভাষা খ. বৈদিক ভাষা গ. হিন্দি ভাষা ঘ. প্রাকৃত ভাষা — উ. ঘ

১১. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে- [প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক: ১৬] ক. সংস্কৃত খ. পালি গ. অপভ্রংশ ঘ. প্রাকৃত — উ. গ

১২. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে / বাংলা ভাষার জন্য কোন ভাষা থেকে? [১৭তম বিসিএস] ক. সংস্কৃত খ. পালি গ. প্রাকৃত ঘ. অপভ্রংশ — উ. গ

১৩. 'বাংলা ভাষার জন্য হয়েছে মাগধী প্রাকৃত থেকে'। এ মতের প্রবক্তা কে? [৯ম বেসরকারী প্রভাষক নিবন্ধন: ১৩] ক. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন খ. ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গ. ড. সুকুমার সেন ঘ. ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় — উ. ঘ

১৪. বাংলা ভাষা কোন ভাষা থেকে এসেছে? [১৩তম বেসরকারী প্রভাষক নিবন্ধন: ১৬] ক. সংস্কৃত খ. গৌড়ীয় প্রাকৃত গ. হিন্দি ঘ. আসামি — উ. খ

১৫. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে? [রূপালী ব্যাংক লি. অফিসার (ক্যাশ): ১৮] ক. মাগধী প্রাকৃত খ. গৌড়ীয় প্রাকৃত গ. মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত ঘ. অর্ধ মাগধী প্রাকৃত — উ. খ

১৬. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন? [পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের রিসার্চ অফিসার: ০৬] ক. গৌড়ীয় অপভ্রংশ খ. গৌড় অপভ্রংশ গ. মাগধী অপভ্রংশ ঘ. প্রাচীন অপভ্রংশ — উ. ক

১৭. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে? [৯ম বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন: ১০ / ৬ষ্ঠ বেসরকারী প্রভাষক নিবন্ধন: ১০] ক. ভারতীয় আর্য খ. সংস্কৃত গ. ইন্দো-ইউরোপীয় ঘ. বঙ্গ-কামরূপী — উ. ঘ

১৮. 'অপভ্রংশ' কথাটির অর্থ কী? [পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবারকল্যাণ সহকারিণী: ১৩] ক. উন্নত খ. বিবৃত গ. সাধারণ ঘ. বিকৃত — উ. ঘ

১৯. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কার কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী? [আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ: ০৪] ক. পালি খ. অপভ্রংশ গ. অবহটঠ ঘ. সংস্কৃত — উ. খ

২০. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়- [জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপসহকারী পরিচালক: ০১] ক. সপ্তম গ্রিষ্টাব্দে খ. সপ্তম খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে গ. খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকে ঘ. খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকে — উ. গ

২১. বাংলা ভাষার বয়স কত? [কর্মসংস্থান ব্যাংক এক্সিকিউটিভ অফিসার: ০১] ক. ১০০০ বছর খ. ২০০০ বছর গ. ২৫০০ বছর ঘ. ২৭০০ বছর — উ. গ

২২. বাংলা ভাষার আদিত্বরের স্থিতিকাল কোনটি? [১৪তম বিসিএস] ক. দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী খ. একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী গ. দ্বাদশ থেকে যোড়শ শতাব্দী ঘ. ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী — উ. ক

২৩. ভাষার জগতে বাংলার স্থান কোথায় / বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষার মধ্যে বাংলার অবস্থান কততম / ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিচারে পৃথিবীতে বাংলা ভাষার স্থান কততম? [মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অধীন অডিটর: ১৪] ক. ষষ্ঠ খ. সপ্তম গ. অষ্টম ঘ. নবম — উ. খ

বিশ্লেষণ: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ মতে, চতুর্থ। বিশ্বের ভাষা নিয়ে অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান 'ইথ্‌নোলোগ'-এর সর্বশেষ (২০২০) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলার অবস্থান পঞ্চম।

২৪. পৃথিবীতে বর্তমানে কতগুলো ভাষা প্রচলিত? [উপজেলা সমাজসেবা অফিসার] ক. পাঁচ হাজার খ. দু হাজার গ. এক হাজার ঘ. আড়াই হাজার — বিশ্লেষণ: পৃথিবীতে বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার ভাষা প্রচলিত আছে। [সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ]

২৫. বাংলা এবং মৈথিলী ভাষার সমন্বয়ে যে ভাষার সৃষ্টি হয়েছে তার নাম কী? [সোনালী ও জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (আইটি)] ক. মাগধী খ. অসমিয়া গ. মরমিয়া ঘ. ব্রজবুলি — উ. ঘ

২৬. প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ- [১৫তম প্রভাষক নিবন্ধন (কলেজ)] ক. মূর্খদের ভাষা খ. পণ্ডিতদের ভাষা গ. জনগণের ভাষা ঘ. লেখকদের ভাষা — উ. গ


৪. বাংলা লিপি

বাংলা ভাষা যেমন বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে, তেমনি বাংলা লিপিও নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান রূপ পরিগ্রহ করেছে। লিপি হচ্ছে লিখন পদ্ধতি। পৃথিবীর প্রায় সকল লিপিই ফিনিশিয় লিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

প্রাচীন ভারতের প্রচলিত চিত্রলিপি থেকে ভারতীয় লিপির উৎপত্তি ঘটে। এ ভারতীয় লিপির রূপ দুইটি। যথা: ১. ব্রাহ্মী লিপি ২. খরোষ্ঠি লিপি

এ ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ পূর্বী লিপি থেকে বাংলা লিপির উৎপত্তি। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুর মিশনে প্রেস স্থাপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়ে হাতে লেখা হয়েছে বলে বাংলা লিপি নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছে। ছাপাখানার প্রভাবে বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং পরবর্তীকালে বাংলা লিপির আর তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

প্রশ্নোত্তর

  • প্র. বাংলা লিপির উৎপত্তি কবে? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- সপ্তম শতাব্দী। ড. সুনীতিকুমারের মতে- দশম শতাব্দী।
  • প্র. ভারতীয় লিপির উৎপত্তি কোথা থেকে? উ. প্রাচীন ভারতের প্রচলিত চিত্রলিপি থেকে।
  • প্র. ভারতীয় লিপির রূপভেদগুলো কী কী? উ. ভারতীয় লিপির রূপ দুইটি। যথা: ১. ব্রাহ্মী লিপি, ২. খরোষ্ঠি লিপি।
  • প্র. ভারতের মৌলিক লিপি কোনটি? উ. ব্রাহ্মী লিপি। সকল ভারতীয় লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে জন্মলাভ করেছে। বাংলা, সিংহলী, ব্রহ্মী, শ্যামী, যবদ্বীপ ও তিব্বতি লিপির উৎসও ব্রাহ্মী লিপি। ব্রাহ্মী লিপি বাম দিক থেকে লেখা হয় এবং খরোষ্ঠী লিপি ডানদিক থেকে লেখা শুরু হয়।
  • প্র. 'ব্রাহ্মী' লিপি সম্পর্কে কী জান? উ. ভারতীয় উপমহাদেশে আর্য ভাষার প্রাচীনতম যে বর্ণমালার সন্ধান পাওয়া যায় তা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের, অশোকের অনুশাসনমালের। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে যে লিপি পাওয়া গেছে, তা উভয় প্রান্ত লিপির সাথে সাদৃশ্য আছে। এই লিপিকে ব্রাহ্মী লিপি বলে। ব্রাহ্মী লিপি কুষাণ ও গুপ্ত রাজাদের আমলে পরিবর্তিত হয়ে তিনটি রূপ ধারণ করে। যথা:
    • ক. সারদা (কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে প্রচলিত রূপ)
    • খ. নাগরী (রাজস্থান, মালব, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত রূপ)
    • গ. কুটিল (ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত রূপ)। বাংলা লিপির উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ 'পূর্বী লিপি' থেকে।
  • প্র. কোন সম্রাট তার অধিকাংশ কর্ম ব্রাহ্মী লিপিতে লেখান? উ. সম্রাট অশোক।
  • প্র. বাংলা লিপির উৎপত্তি কোথা থেকে? উ. ব্রাহ্মী লিপির কুটিল রূপ পূর্বী লিপি থেকে। পাল আমলে বাংলা লিপির প্রসার ঘটে ও সেন আমলে এর গঠন কাজ শুরু হয় এবং পাঠান যুগে এটি সাময়িক স্থায়িত্ব লাভ করে।
  • প্র. বাংলা লিপির অক্ষর স্থায়িত্ব লাভ করে কবে? উ. ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশনে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে।
  • প্র. বাংলা লিপির অক্ষর বা বর্ণের আধুনিক রূপ দেন কে? উ. পঞ্চানন কর্মকার।

বাংলা লিপির বিবর্তন (চিত্র)

ভারতীয় লিপিমালা → ব্রাহ্মী লিপি ও খরোষ্ঠী লিপি ব্রাহ্মী লিপি → পশ্চিমা লিপি, মধ্য ভারতীয় লিপি, পূর্বী লিপি পূর্বী লিপি → বাংলা লিপি ও বর্ণমালা

বিগত পরীক্ষায় আসা প্রশ্নসমূহ

১. কোন যুগে বাংলা লিপি ও অক্ষরের গঠনকার্য শুরু হয়- [জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ০৪-০৫] ক. পাঠান যুগ খ. সেন যুগ গ. পাল যুগ ঘ. মোগল যুগ — উ. খ

২. কোন শাসনামলে বাংলা লিপির স্থায়ী রূপ তৈরি করে অক্ষর গঠনের কাজ শুরু করে- [খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক: ১১] ক. সেন যুগ খ. পাঠান যুগ গ. পাল যুগ ঘ. মোগল যুগ — উ. খ

৩. ভারতীয় মৌলিক লিপি কোনটি? [জবি (খ-ইউনিট): ০৪-০৫] ক. ব্রাহ্মী খ. কুটিল গ. খরোষ্ঠী ঘ. নাগরী — উ. ক

৪. বাংলা লিপির উৎস কি / বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে কোন প্রাচীন লিপি থেকে? [১৪তম বিসিএস / ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন: ১৯] ক. সংস্কৃত খ. চীনা লিপি গ. আরবি লিপি ঘ. ব্রাহ্মী লিপি — উ. ঘ

৫. ভারতীয় কোন লিপিমালা ডানদিক থেকে লেখা হয়? [মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অধীন জুনিয়র অডিটর: ১১] ক. হিন্দি খ. মারাঠি গ. গুজরাটি ঘ. খরোষ্ঠী — উ. ঘ


৫. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের যুগবিভাগ

আজ থেকে হাজার বছরের বেশি সময় আগে সূচিত হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের পথচলা। এই দীর্ঘ সময়ে সাহিত্যের গতি ও বৈশিষ্ট্য সমভাবে অগ্রসর হয়নি। অন্য যে কোনো ইতিহাসের মত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকেও তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সাধারণভাবে দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ তিনটি ভাগ করা হয়েছে। এর একটি হলো ১২০৪ সালে সংঘটিত ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বঙ্গবিজয়; অপরটি হলো ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা এবং এর মধ্য দিয়ে ইংরেজি শিক্ষার সূত্রপাত ও বাংলা গদ্যের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার সূচনা। প্রথমটি মধ্যযুগের, অপরটি আধুনিক যুগের প্রারম্ভকাল হিসেবে বিবেচিত। সাহিত্যের রস বিচারে প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের ভেতর তেমন একটা পার্থক্য নেই, ভাষার পার্থক্য ছাড়া।

যুগের নাম ও সময়কাল

যুগের নাম সময়কাল
প্রাচীন যুগ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
মধ্যযুগ ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
আধুনিক যুগ ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান।

দীনেশচন্দ্র সেনের 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রয়াস। তিনি বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ করেছেন নিম্নরূপে: ১. হিন্দু-বৌদ্ধ যুগ (৮০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) ২. গৌড়ীয় যুগ বা চৈতন্যপূর্ব যুগ ৩. চৈতন্য-সাহিত্য বা নবদ্বীপের যুগ, ৪. সংস্কার যুগ ৫. কৃষ্ণচন্দ্রীয় যুগ বা নবদ্বীপের দ্বিতীয় যুগ

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) গ্রন্থে যুগ বিভাগ করেছেন নিম্নোক্তরূপে: ১. প্রাচীন যুগ বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) ২. তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ) ৩. আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) ৪. অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) [চৈতন্যযুগ বা বৈষ্ণব সাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং নবাবী আমল (১৭০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ)] ৫. আধুনিক যুগ (১৮০০- বর্তমান)

প্রশ্নোত্তর

  • প্র. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কবে থেকে শুরু হয়? উ. চর্যাপদের কাল থেকে।
  • প্র. বাংলা সাহিত্যের যুগকে প্রধানত কতভাগে ভাগ করা হয়? উ. তিন ভাগে।
  • প্র. মধ্যযুগকে আবার কয়ভাগে ভাগ করা হয়? উ. তিন ভাগে।

মধ্যযুগের উপবিভাগ:

যুগের নাম সময়কাল
প্রাকচৈতন্য যুগ ১২০১-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
চৈতন্য যুগ ১৫০১-১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
চৈতন্য পরবর্তী যুগ ১৬০১-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  • প্র. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন কোনটি? উ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
  • প্র. মধ্যযুগের কাব্যের প্রধান ধারা কয়টি? উ. ৪টি। যথা: ক. মঙ্গলকাব্য, খ. বৈষ্ণব পদাবলি, গ. রোমান্সধর্মী প্রণয়োপাখ্যান, ঘ. অনুবাদ সাহিত্য।
  • প্র. সাহিত্যে আধুনিক যুগ কবে শুরু হয়? উ. ১৮০১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮৬০ সালের দিকে মাইকেল মধুসূদনের সদর্প আবির্ভাবের মাধ্যমে।
  • প্র. প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য কী? উ. প্রাচীনযুগে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। মধ্যযুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ধর্মনির্ভরতা।
  • প্র. আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য কী? উ. আত্মচেতনা, জাতীয়তাবোধ এবং মানবতার জয়জয়কার।

বিগত পরীক্ষায় আসা প্রশ্নসমূহ

১. বাংলা সাহিত্যের যুগকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? [পরিবেশ অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর: ২০ / পিএসসির সহকারী পরিচালক: ০৬] ক. ৪টি খ. ৩টি গ. ৫টি ঘ. ৬টি — উ. খ

২. বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ- [৩৪তম বিসিএস] ক. ৪৫০-৬৫০ খ. ৬৫০-৮৫০ গ. ৬৫০-১২০০ ঘ. ৬৫০-১২৫০ — উ. গ

৩. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ কবে শুরু হয়? [কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (বি-ইউনিট): ১২-১৩] ক. ১৮০১ খ. ১৯০১ গ. ২০০১ ঘ. ২০১১ — উ. ক


৬. প্রাচীন যুগ — চর্যাপদ

প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য এবং এর কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এ সময়ের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। ধর্মের বিষয়টি সমাজজীবনের চিত্তভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, তাই সাহিত্যে ধর্মের কথা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

প্রশ্নোত্তর — চর্যাপদের পরিচয়

  • প্র. প্রাচীন যুগ কোন সময়কালকে ধরা হয়? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রি.। ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯০০-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
  • প্র. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন কোনটি? [২৭/২১/১৭তম বিসিএস লিখিত] উ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
  • প্র. চর্যাপদ কী ও কারা এগুলো রচনা করেন? [২৪/২০তম বিসিএস লিখিত] উ. চর্যাপদ গানের সংকলন বা সাধন সংগীত যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা এ গানের সংকলন বা সাধন সংগীতের সাহায্যে কোনটি চর্য (আচরণীয়) আর কোনটি অ-চর্য (অনাচরণীয়) তা বিনিশ্চয় (নির্ণয়) করা যেতে পারে।
  • প্র. চর্যাপদ নেপালে পাওয়ার কারণ কী? উ. ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সেন রাজারা ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু চর্যাপদের রচয়িতারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাই ধর্মীয় সংকীর্ণতায় নিমজ্জিত সেন সময়কালের কতিপয় হিন্দু ব্রাহ্মণ বৌদ্ধদের ওপর নিপীড়ন চালায়। আবার, ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বাংলায় আগমন ঘটলে মুসলিম তুর্কিদের আক্রমণে ভয়ে বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ প্রাণের ভয়ে পুঁথিপত্র নিয়ে নেপাল, ভুটান ও তিব্বতে পালিয়ে যায়। একারণেই চর্যাপদ নেপালে পাওয়া যায়।
  • প্র. চর্যাপদ আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কে কী জান? উ. ১৮৮২ সালে 'বিবিধার্থ পত্রিকার' সম্পাদক রাজেন্দ্রলাল মিত্র Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে নেপাল প্রাপ্ত সংস্কৃত ভাষায় রচিত বিভিন্ন বৌদ্ধতাত্ত্বিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। রাজেন্দ্রলালের মৃত্যুর পর তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বাংলা, বিহার ও আসাম অঞ্চলের পুঁথি সংগ্রহের দায়িত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপর। তিনি তৃতীয়বারের (প্রথমবার-১৮৯৭, দ্বিতীয়বার-১৮৯৮) চেষ্টায় ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে নতুন কিছু পুঁথির সন্ধান পান যা 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব', 'সরহপদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' নামে পরিচিত। এর মধ্যে 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষায় এবং বাকি তিনটি অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। ১৯১৫ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে নেপাল থেকে প্রাপ্ত তালপাতার পুঁথির একটি তালিকা A Catalogue of Palm Leaf and selected Paper MSS belonging to the Durbar Library, Nepal নামে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এটি তাঁর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ ব.) কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়।
  • প্র. চর্যাপদ কবে ও কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়? [৩৪/২৮/২৭তম বিসিএস লিখিত] উ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন।
  • প্র. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন? [৩৩/২৭তম বিসিএস লিখিত] উ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১)। মহামহোপাধ্যায় তাঁর উপাধি।
  • প্র. চর্যাপদ কবে ও কোথা থেকে প্রকাশিত হয়? উ. মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ ব.) কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব' ও 'সরহপদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলনে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়।
  • প্র. চর্যাপদ কবে রচিত হয়? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে- ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রি.। ড. সুকুমার সেনের মতে- ৯০০ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ।
  • প্র. চর্যাপদ রচনার সময় কোন রাজারা ক্ষমতায় ছিল? উ. চর্যাপদ রচনার সময়কালে বাংলায় পাল রাজারা অধিষ্ঠিত ছিলেন। তারা প্রায় চারশত বছর বাংলা শাসন করেছেন।
  • প্র. চর্যাপদের কবি/পদকর্তা কতজন? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- ২৩ জন। ড. সুকুমার সেনের মতে- ২৪ জন।

কবিদের/পদকর্তাদের নাম

আর্যদেবপা, কঙ্কণপা, কম্বলাম্বরপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, গুণ্ডরীপা, চাটিলপা, জয়নন্দীপা, ঢেণ্ডণপা, ডোমীপা, তাত্রীপা, তাড়কপা, দারিকপা, ধর্মপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকপা, মহীত্তাপা, লাড়িডোম্বীপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা।

চর্যাপদের পদ ও পদকর্তাদের তথ্য

  • প্র. চর্যাপদের মোট পদ কতটি ও কয়টি পাওয়া গেছে? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি। ড. সুকুমার সেনের 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫১টি।
  • প্র. চর্যাপদের কোন কোন পদ পাওয়া যায়নি? উ. ২৩ নং অর্ধেক, ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ।
  • প্র. যেসব পদ পাওয়া যায়নি সেগুলোর রচয়িতা কে? উ. ২৩- ভুসুকুপা, ২৪- কাহ্নপা, ২৫- তাত্তীপা, ৪৮- কুক্কুরীপা।
  • প্র. চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদের রচয়িতা কে? উ. কাহ্নপা। তিনি ১৩টি পদ রচনা করেন; যথা: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪ (পাওয়া যায় নি), ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫। চর্যার পদকর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যুক্ত হয়েছে। চর্যায় যারা পদ রচনা করেছেন তাদের প্রত্যেককে 'মহাসিদ্ধ' বলা হয়ে থাকে।
  • প্র. চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা কে? উ. লুইপা। তিনি ২টি পদ রচনা করেন; যথা: ১, ২৯। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি রাঢ় অঞ্চলের বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি শবরপার শিষ্য ছিলেন। লুইপাকে আদি চর্যাকার হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
  • প্র. চর্যাপদের প্রথম পদটি কী? উ. "কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পইঠো কালে..."
  • প্র. চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত? উ. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ।
  • প্র. কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলোকে টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন? উ. মুনিদত্ত। তিনি মূল পদের ১১ নং পদের ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
  • প্র. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কে আবিষ্কার করেন? উ. কীর্তিচন্দ্র তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী এটি আবিষ্কার করেন।
  • প্র. চর্যাপদের অন্যান্য পদকর্তাগণ কে কতটি পদ রচনা করেছেন?
পদকর্তার নাম সংখ্যা অবশিষ্ট পদকর্তাগণ
ভুসুক পা (বাঙালি কবি) ৮ ১টি করে পদ রচনা করেন। লাড়িডোম্বী পা'র নাম পাওয়া গেলেও তাঁর কোন পদ পাওয়া যায়নি।
সরহ পা ৪
কুক্কুরী পা (মহিলা কবি) ৩
লুই পা, শবর পা, শান্তি পা ২
  • প্র. চর্যাপদের প্রবাদ বাক্য কয়টি ও কী কী? উ. ৬টি। যথা:

    • অপণা মাংসে হরিণা বৈরী (৬নং পদ- ভুসুকুপা) — অর্থ: হরিণের মাংসই তার জন্য শত্রু।
    • হাথে রে কাঞাণ মা লোউ দাপণ (৩২নং পদ- সরহপা) — অর্থ: হাতের কাঁকন দেখার জন্য দর্পণ প্রয়োজন হয় না।
    • হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেসী (৩৩নং পদ- ঢেণ্ডণপা) — অর্থ: হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রতিদিন প্রেমিকরা এসে ভীড় করে।
    • দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায় (৩৩নং পদ- ঢেণ্ডণপা) — অর্থ: দোহন করা দুধ কি বাটে প্রবেশ করানো যায়?
    • বর সুণ গোহালী কিমো দুটঠ বলন্দে (৩৮নং পদ- সরহপা) — অর্থ: দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল।
    • অণ চহন্তে আণ বিণঠা (৪৪নং পদ- কঙ্কণপা) — অর্থ: অন্য চাহিতে, অন্য বিনষ্ট।
  • প্র. প্রাচীনতম ও আধুনিকতম চর্যাকার কে? উ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, প্রাচীনতম শবর পা (৬৮০-৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং আধুনিকতম ভুসুকুপা। শবরপা, ভুসুকুপা ও লুইপা বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত।

  • প্র. কাহ্নপার পরিচয় দাও। [১৩/১০তম বিসিএস লিখিত] উ. তিনি চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদের রচয়িতা। তিনি ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী। তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সংগীত শাস্ত্র উভয় বিষয়েই দক্ষ ছিলেন। তাঁর পদগুলোতে নিপুণ কবিত্বশক্তির প্রকাশের পাশাপাশি তৎকালীন সমাজচিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।

  • প্র. চর্যাপদের ভাষা কোনটি? উ. মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এর ভাষার নাম 'বঙ্গকামরূপী', এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  • প্র. সন্ধ্যা ভাষা কী? এ ভাষায় রচিত সাহিত্য সম্পর্কে লিখুন। [৩৮তম ও ৩২তম বিসিএস লিখিত] উ. যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি, যে ভাষার অর্থ একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মতো, সে ভাষাকে পণ্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বলেছেন। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ' এ ভাষায় রচিত। 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ' গানের সংকলন বা সাধন সংগীত যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন। সন্ধ্যা ভাষা সম্পর্কে চর্যাপদের আবিষ্কারক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেন, 'আলো-আঁধারির ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না'।

  • প্র. চর্যাপদের ভাষা নিয়ে কে আলোচনা করেন? উ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) (১৯২৬) গ্রন্থে।

  • প্র. চর্যাপদের ধর্মমত নিয়ে কে আলোচনা করেন? উ. ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে।

  • প্র. চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে ধারণা দিন। [২৯তম বিসিএস লিখিত] উ. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাগীতি বা চর্যাপদ। চর্যাগীতি বা চর্যাপদ গানের/কবিতার সংকলন বা সাধন সংগীত যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এগুলো মূলত মহাজান ধর্মশাখার অন্তর্গত সহজযান ধর্মশাখার সাধনসংগীত। বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল তারই বজ্রযানের সাধনগুণাবলি ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত। 'মহাসুখরূপ নির্বাণ লাভ' হলো চর্যার প্রধান তত্ত্ব। এ সম্পর্কে চর্যাকার ভুসুকপা বলেছেন, 'সহজানন্দ মহাসুখ লীলে'। চর্যাপদ বৌদ্ধতাত্ত্বিক মূলগত ভাবনার অনুসারী হলেও এখানে প্রধান লাভ করেছে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম।

  • প্র. চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কিত বিতর্কের ব্যাখ্যা দাও। [৩৫/২৮তম বিসিএস লিখিত] উ. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বা 'চর্যাগীতিকোষ' বা 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ'। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে এটি আবিষ্কার করেন। শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ ব.) কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'ডাকার্ণব' ও 'সরহপদের দোহা' ও 'কৃষ্ণপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলনে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়।

    এটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয় এর ভাষা নিয়ে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' গ্রন্থটিকে সম্পূর্ণ প্রাচীন বাংলার নিদর্শন বলে দাবি করেন। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের আবিষ্কারক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ তাঁর এ দাবিকে সমর্থন করেন।

    ১৯২০ সালে বিজয়চন্দ্র মজুমদার History of the Bengali Language গ্রন্থে চর্যাগীতির ভাষাকে প্রাচীন বাংলা বলতে অস্বীকার করেন। এছাড়াও হিন্দি, অসমিয়া, উড়িয়া প্রভৃতি ভাষাবিদরা নিজ নিজ ভাষার আদি নিদর্শন বলে দাবি করেন।

    ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) (১৯২৬) গ্রন্থে চর্যাগান ও দোহাগুলির ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ এবং ছন্দ এবং চর্যার কবিদের নাম, পদ্মা নদীর নামের উল্লেখ (হবুকুরের ৪৯ নং পদে 'পউয়া খাল') বিশ্লেষণ করে এর ভাষাকে প্রাচীন বাংলার আদি নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন।

    ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্যারিস থেকে প্রকাশিত 'Les Chants Mystique de Saraha et de Kanha' গ্রন্থে সুনীতিকুমারের মতকে সমর্থন করেন। তাঁর মতে, এর ভাষার নাম বঙ্গকামরূপী।

    তারপরও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি যে, এটি সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষায় এবং মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

নবচর্যাপদ

  • প্র. নবচর্যাপদ কী? উ. 'নবচর্যাপদ' চর্যাপদের অনুরূপ রচনা। শশীভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৬৩ সালে নেপাল ও তরাইভূমি থেকে ২৫০টি পদ আবিষ্কার ও সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ১০০টি পদ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'নবচর্যাপদ' নামে সেগুলোর মধ্যে থেকে ৯৮টি পদ সংকলন করে প্রকাশ করেন। এ পদগুলোর রচনাকাল বারো থেকে মোলো শতকের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • প্র. নতুন চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর। উ. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা নিরন্তর চলমান। প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ প্রকাশের ১০০ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও ফোকলোর বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ চর্যাপদ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর সংকলিত ও সম্পাদিত চর্যাপদের নাম 'নতুন চর্যাপদ'। নতুন চর্যাপদ মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার-গীত। এর পদগুলোতে তান্ত্রিক নানা দেবদেবীর রূপসৌন্দর্য, মুখ ও বাহুর বর্ণনা, তাঁদের আসন, মুদ্রা ও দেহভঙ্গি, তাঁদের আভরণ ও আয়ুধ ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য ও বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। এটি ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি বইমেলায় প্রকাশিত হয় এবং উৎসর্গ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে। ২০০৮ সালে ড. শাহেদ কাঠমুণ্ডু ও আশেপাশের বিভিন্ন বজ্রযানী মন্দিরের পুঁথি সংগ্রহ করতে রক্তকাজী বজ্রাচার্যের নিকট থেকে নতুন চর্যাপদের দুটি সংকলিত পুস্তক সংগ্রহ করেন। এ পুস্তক দুটির পদগুলো ছিলো নেওয়ারিমিশ্রিত দেবনাগরী অক্ষরে মুদ্রিত। নতুন চর্যাপদে যেসব পদ সংকলিত হয়েছে সেগুলোর রচনাকাল অষ্টম থেকে বিশ শতক পর্যন্ত। সুতরাং নতুন এই চর্যাপদ প্রমাণ করে যে, চর্যাপদ কেবল প্রাচীন সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, মধ্যযুগেও এগুলোর রচনা অব্যাহত ছিল। এমনকি বিশ শতকেও চর্যাপদ রচিত হয়েছে। সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ সংকলিত ও সম্পাদিত নতুন চর্যাপদে ৩৩৫টি পদ সংকলিত হয়েছে। এছাড়া পরিশিষ্ট অংশে রাহুল সাংকৃত্যায়ন সংগৃহীত ২০টি, শশীভূষণ দাশগুপ্ত সংগৃহীত ২১টি এবং জগন্নাথ উপাধ্যায় সংগৃহীত ৩৭টি পদ সংকলিত হয়েছে। সে হিসেবে এ গ্রন্থে সংকলিত নতুন চর্যাপদের মোট সংখ্যা ৪১৩টি। এ গ্রন্থের ভূমিকা অংশটি চার ভাগে বিভক্ত:
    • প্রথম অংশ → 'নতুন চর্যা সংগ্রহ ও চর্যাকার পরিচিতি।'
    • দ্বিতীয় অংশ → 'নতুন চর্যায় বজ্রযানী দেবদেবী।'
    • তৃতীয় অংশ → 'নতুন চর্যার আঙ্গিক, ভাষা ও ভূগোল।'
    • চতুর্থ অংশ → 'চর্যাপদ ও নতুন চর্যা।'